বন্দে ভারত ট্রেন চালিয়ে ইতিহাস গড়লেন ঝাড়খণ্ডের রিতিকা তিরকি

ভারতের রেল ইতিহাসে এক নতুন গর্বের অধ্যায় যুক্ত হলো। ঝাড়খণ্ডের রিতিকা তিরকি ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা হিসেবে অত্যাধুনিক বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি আদিবাসী সমাজ ও দেশের নারীদের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা।
ভারতীয় রেল দীর্ঘদিন ধরেই দেশের উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আসছে। সেই রেলের অন্যতম গর্ব বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও দায়িত্বশীল ট্রেন চালানোর দায়িত্ব একজন আদিবাসী মহিলার হাতে যাওয়া নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক।
রিতিকা তিরকির জন্ম ঝাড়খণ্ডের এক আদিবাসী পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে নানা সামাজিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে তিনি নিজের লক্ষ্য স্থির রেখেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে তিনি ভারতীয় রেলে লোকো পাইলট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালানো সাধারণ ট্রেন চালানোর মতো নয়। এই ট্রেনের গতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আধুনিক কন্ট্রোল সিস্টেম একে বিশেষ করে তুলেছে। লোকো পাইলটকে প্রতিনিয়ত সতর্ক থাকতে হয় এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়।
এই দায়িত্বপূর্ণ কাজের জন্য রিতিকা তিরকি বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার পরেই তাঁকে বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
রিতিকার এই সাফল্যের সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর। আদিবাসী সমাজের বহু তরুণী আজ তাঁর নাম শুনে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও সরকারি চাকরিতে যে তারাও সমানভাবে যোগ্য—এই বার্তাই পৌঁছে যাচ্ছে সমাজের প্রতিটি স্তরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সাফল্য নারী ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারত ধীরে ধীরে এমন এক সমাজের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সুযোগ পেলে সবাই নিজের প্রতিভা প্রমাণ করতে পারে।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চালকের আসনে একজন আদিবাসী মহিলা—এই ছবি নতুন ভারতের প্রতীক। এটি দেখিয়ে দেয় যে ভারত শুধু প্রযুক্তিতে নয়, মানসিকতাতেও বদলাচ্ছে।
রিতিকা তিরকি আজ শুধুমাত্র একজন লোকো পাইলট নন। তিনি ঝাড়খণ্ডের গর্ব, আদিবাসী সমাজের আশা এবং দেশের লক্ষ লক্ষ নারীর অনুপ্রেরণা।













Leave a Reply